আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা তাঁর আয়াত অস্বীকার করে এবং অহংকারবশে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের জন্য আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না—যতক্ষণ না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে (আ‘রাফ ৭:৪০)।
এই আয়াতে কুফরের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে অহংকার উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ কাফের তওবা করতে পারে, অজ্ঞ ব্যক্তি জেনে ফিরে আসতে পারে; কিন্তু অহংকারী ব্যক্তি সত্য জেনেও তা প্রত্যাখ্যান করে।
অহংকার কী
অহংকারের আরবি শব্দ কিবর (الكبر)। এর অর্থ নিজের বড়ত্ব জাহির করা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
“যার অন্তরে কণা পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন—
অহংকার হলো সত্যকে দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।
আরও পড়ুন >> রাগ নিয়ন্ত্রণের ফযীলত ও উপায়
অহংকার কেন মারাত্মক পাপ
অহংকার অধিকাংশ পাপের মূল উৎস।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন,
সমস্ত পাপের মূল তিনটি—অহংকার, লোভ ও হিংসা।
এর মধ্যে অহংকারই ইবলিসকে ধ্বংস করেছিল। তাই অহংকার শিরকের চেয়েও ভয়াবহ।
অহংকারের প্রধান নিদর্শনসমূহ
১. সত্য জেনেও প্রত্যাখ্যান করা
এটাই অহংকারের সবচেয়ে বড় চিহ্ন। ফেরাউন ও ইবলিস এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
২. নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা
ইবলিস আদম (আ.)-কে সিজদা না করার কারণ হিসেবে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেছিল।
৩. অন্যের আনুগত্যকে অপমান মনে করা
যারা সেবা ও আনুগত্যকে হেয় মনে করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছিত হয়।
৪. নিজেকে অভাবমুক্ত ভাবা
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা পদমর্যাদা মানুষকে অনেক সময় আল্লাহর উপর নির্ভরতা ভুলিয়ে দেয়।
৫. মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা
দরিদ্র, দুর্বল বা নিম্নশ্রেণির মানুষকে ছোট করে দেখা অহংকারের স্পষ্ট লক্ষণ।
৬. কঠোর আচরণ ও দুর্ব্যবহার
অহংকারী ব্যক্তি সাধারণত মানুষের সাথে রূঢ় ও অহংকারী আচরণ করে।
৭. নিজের ভুল মানতে অস্বীকৃতি
ভুল প্রমাণিত হলেও অহংকারী ব্যক্তি সত্যের দিকে ফিরে আসে না।
অহংকারের পরিণতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
“অহংকারীরা কিয়ামতের দিন মানুষের আকৃতিতে পিঁপড়ার মতো উঠবে এবং লাঞ্ছনায় আচ্ছন্ন থাকবে।”
তারা জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে এবং জাহান্নামের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।
অহংকার থেকে বাঁচার উপায়
১. আল্লাহভীতি অর্জন
আল্লাহকে ভয় করলে অহংকার টিকে থাকতে পারে না।
২. নিজের সীমাবদ্ধতা স্মরণ করা
মানুষ মাটি থেকে সৃষ্টি এবং আবার মাটিতেই ফিরে যাবে।
৩. দুর্বলদের সম্মান করা
রাসূল ﷺ বলেছেন, দুর্বলদের মাধ্যমেই আল্লাহ রিযিক ও সাহায্য দেন।
৪. সত্য গ্রহণে প্রস্তুত থাকা
ভুল স্বীকার করা অহংকার নয়, বরং তাক্বওয়ার পরিচয়।
অহংকার এমন এক আত্মঘাতী রোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। জান্নাতপ্রত্যাশী মুমিনের জন্য অহংকার থেকে মুক্ত থাকা অপরিহার্য। প্রকৃত সম্মান কেবল ঈমান ও তাক্বওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি তাক্বওয়াবান।”
— (হুজুরাত ৪৯:১৩)