মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার ইসলামিক নির্দেশনা

কোনো মানুষ সম্পর্কে খারাপ ধারণা করা সমীচীন নয়। এটি অন্যকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। ইসলামে মুমিনের প্রতি সদর্থক ধারণা রাখা উত্তম। বিশ্বাসীদের প্রতি অতিরিক্ত সন্দেহ পাপের কারণ হতে পারে। এক উদাহরণে দেখা যায়, নবী করীম (ছাঃ) সতর্ক করেছিলেন, শয়তান মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বপন করতে চায়। এজন্য একজন মুমিনকে অপরের প্রতি সন্দেহ ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

দান ও খোঁটা দেওয়া

আল্লাহ মানুষকে ধনী ও দরিদ্র হিসেবে ভিন্ন করেছেন। তাই দান দেওয়ার সময় খোঁটা বা কষ্ট দেওয়া যাবে না। খোঁটা দেওয়া দানের সুফল নষ্ট করে। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, দান দেওয়ার পর খোঁটা দেয়া বা কষ্ট দেওয়া অবিশ্বাসীদের দৃষ্টান্তের সমতুল্য। বরং দানটি নিঃস্বার্থভাবে করতে হবে। আল্লাহ বলেন, যারা খোঁটা ছাড়া আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তাদের জন্য পুরস্কার নিশ্চিত।

সাহায্য ও সহমর্মিতা

মুমিনরা একে অপরকে সাহায্য করলে আল্লাহও তার সাহায্যে থাকেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকবেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সহায়তায় নিয়োজিত থাকে। সহমর্মিতা মানুষের জীবন সহজ করে এবং পরকালে নেকি বৃদ্ধি করে।

অন্যায় বা যুলুম করা

যুলুম বা অন্যায় করা অন্যকে কষ্ট দেওয়ার বড় মাধ্যম। এটি ব্যক্তি, সম্পদ বা অধিকার হরণ বা নিপীড়নের মাধ্যমে হতে পারে। ইসলামে যুলুম নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, যারা অন্যায় করে, তাদের বড় শাস্তি হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যারা অন্যের ওপর যুলুম করেছেন, তাদেরকে আগে ক্ষমা চাইতে হবে, নাহলে তাদের উপর অপরের পাপ চাপানো হবে।

প্রতারণা এবং ধোঁকা

মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া অন্য একটি মাধ্যম। ব্যবসায়ীরা মিথ্যা পরিমাপ, নকল বা খারাপ পণ্য দিয়ে ক্রেতাকে প্রতারিত করলে, বা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসতর্ক আচরণ করলে তা হারাম। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, যারা প্রতারণা করে তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং জাহান্নামে যাবে।

আরও পড়ুন >> মুসলিম জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য | কুরআন ও সুন্নাহ আলোকে

দোষ খুঁজে বের করা ও শত্রুতা

পৃথিবীতে নিখুঁত মানুষ নেই। অন্যের দোষ খুঁজে বের করা বোকামি এবং এটি মনকে কষ্ট দেয়। ইসলামে মুমিনদের একে অপরের প্রতি শত্রুতা বা বিদ্বেষ না রাখার নির্দেশ আছে। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, মুসলিমরা যেন এক দেহের মতো; এক অঙ্গ যন্ত্রণায় ভুগলে অন্য অঙ্গও অনুভব করে।

রাস্তা বন্ধ করা ও অসুবিধা সৃষ্টি করা

মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করা, প্রতিবেশী বা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ। বরং রাস্তা খোলা ও সহায়ক আচরণ নেকী। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরানো ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।

অভিশাপ ও হত্যার হারামতা

অভিশাপ বা কোনো মানুষের হত্যাও কষ্ট দেওয়ার চূড়ান্ত মাধ্যম। ইসলামে মুমিন কখনো অভিশাপকারী হতে পারে না। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, কোনো মানুষকে অবৈধভাবে হত্যা করা সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার সমতুল্য। মুসলিমদের রক্ত, সম্পদ ও মর্যাদা হেফাজত করা অত্যন্ত জরুরি।

কথা বা কাজে মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। এটি না মানলে পরকালে শাস্তি এবং দুনিয়ায়ও নেকি অর্জন হয় না। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই পাপ থেকে হেফাজত করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top