ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। সমাজের ভ্রাতৃত্ব ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সালামের অপরিহার্য ভূমিকা রয়েছে। “السلام عليكم” মানে আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
সালামের সংজ্ঞা
সালাম শব্দের আভিধানিক অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা। পরিভাষায় এটি মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা, কল্যাণ ও নিরাপত্তা কামনার মাধ্যম।
সালামের ইতিহাস
প্রাক ইসলামী আরব সমাজে বিভিন্ন সম্ভাষণ প্রচলিত ছিল। ইসলামের আগমনের পর বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) সালাম প্রচলনের নির্দেশ দেন।
সালাম: আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত বিধান
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আদম (আঃ) ফেরেশতাদের সালাম জানানোর মাধ্যমে নবজাত মুসলিমদের জন্য সালামের প্রবর্তন। এটি সব মুসলমানের জন্য শুভচিন্তাকামী নির্দেশ।
সামাজিক ও ব্যক্তিগত গুরুত্ব
- অহংকার দূর করা: সালাম বিনয় সৃষ্টি করে।
- কৃপণতা দূর করা: সালাম বিতরণে দানশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- পরিচয় ও সুসম্পর্ক: সালাম সামাজিক চুম্বক; অপরিচিতকেও পরিচিত করে।
- নিরাপত্তা ও অনুমতি: অন্যের ঘরে প্রবেশের আগে সালাম দানের মাধ্যমে সম্মান রক্ষা।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নির্দেশ
- সালাম সর্বপ্রথম প্রদানের মাধ্যমে উত্তম ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।
- সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা ও পুনর্গঠনে সালাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সালামের আদান-প্রদানের নিয়ম
- ছোটরা বড়দের সালাম করবে।
- পথচারী উপবিষ্টকে সালাম জানাবে।
- মুসলিম ভাইদের মধ্যে দেখা হলে সালাম প্রতিবার পুনরাবৃত্তি করা।
- আহ‘লে কিতাবকে শুধুমাত্র উত্তরে “ওয়ালাইকুম” বলবে।
জান্নাতের প্রবেশ ও সালাম
সালাম জান্নাতবাসীর প্রতি অভিবাদন হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। যারা ধৈর্য ধারণ করেছেন, তাদেরকে ফেরেশতাগণ সারা জান্নাতের পথে সালাম জানাবে।
আরও পড়ুন >> ছোট সৎকর্ম: সামান্য কাজও জান্নাতে পৌঁছে দিতে পারে
সমাপনী
সালাম কেবল শব্দ নয়; এটি সামাজিক, ধর্মীয় এবং মানসিক শান্তির প্রতীক। এটি প্রচলনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে ভ্রাতৃত্ব, শান্তি এবং সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।