ইসলাম আল্লাহ পাকের মনোনীত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে ইসলামের শিক্ষা ও বিধান নেই। কিন্তু যখন মানুষ এই শিক্ষাগুলো ভুলে যায়, তখন বিপর্যয় নেমে আসে। শুধু আখিরাত নয়, দুনিয়ার জীবনও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বর্তমানে সমাজে নারী নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী মেয়েরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার। মা-বোনদের এখন নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। দুঃখজনকভাবে, বিপর্যয়ের সাথে পাল্লা দিয়েই আমাদের অবহেলা বাড়ছে।
পরিবার ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা
আমাদের সমাজে অনেক পরিবারে দেখা যায়, মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে পর্দা ও নিরাপত্তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। একজন শিক্ষিত মা হয়েও কেউ কেউ সন্তানের পোশাক ও পরিবেশ নিয়ে উদাসীন। অথচ ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে, সন্তানের শিক্ষার পাশাপাশি তার চরিত্র ও নিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সহশিক্ষার উন্মুক্ত পরিবেশে অনেক তরুণ-তরুণী নৈতিক বিপর্যয়ে পড়ছে। তাই ইসলামভিত্তিক শিক্ষা ও আলাদা শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন >> গীবত : পরিণাম ও প্রতিকার
ইসলামে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবেশের আহ্বান
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা ইসলামে প্রবেশ কর পরিপূর্ণভাবে।” এই নির্দেশের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, ইসলাম কেবল নামায-রোযার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জীবনাচরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দেয়। কেউ যদি নামায পড়ে কিন্তু সন্তানকে ‘প্রগতিশীল মুসলিম’ বানানোর নামে পশ্চিমা সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দেয়, তবে সে ইসলামে সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করেনি। পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হতে হলে ইসলামকেই জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে সর্বোত্তম নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
গায়রে মাহরাম ও পর্দার গুরুত্ব
গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে নারীর পর্দা রাখা ফরজ। অনেকেই ভুলভাবে ভাবেন, শুধু অপরিচিত পুরুষের সাথেই পর্দা করতে হয়। কিন্তু আত্মীয়দের মধ্যেও অনেকেই গায়রে মাহরাম, যেমন—ভাসুর, দেবর, চাচা শ্বশুর, মামা শ্বশুর, ইত্যাদি। তাদের সাথে পর্দা না রাখার কারণেই বহু দুর্ঘটনা ঘটে। নবী করিম ﷺ বলেছেন, “ভাসুর তো মৃত্যু।” তাই নারীদের এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। স্বামীদেরও উচিত স্ত্রীর পর্দা পালনে সহযোগিতা করা, কারণ এমন স্ত্রীই নবীজির ভাষায় “দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।”
চিকিৎসা ও পর্দার সতর্কতা
পর্দানশীন নারীদের অনেক সময় চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। তবে প্রথমেই নারী চিকিৎসক খোঁজা উচিত। প্রয়োজনে কষ্ট করে হলেও এমন চিকিৎসক খুঁজে নেওয়া সম্ভব যারা ভদ্রতা ও সৌজন্য বজায় রাখেন। একান্ত প্রয়োজনে যদি পুরুষ চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়, তবে মাহরাম পুরুষকে সঙ্গে রাখা জরুরি। একা চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করা উচিত নয়। ইসলামের পর্দা-বিধান এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বেগানা নারী ও পুরুষ কখনো একান্তে একত্রে থাকা উচিত নয়।
প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা
মোবাইল ফোন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে যেমন যোগাযোগ সহজ হয়েছে, তেমনি অপব্যবহারে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক নারী অচেনা নম্বর থেকে কল পেয়ে বিপদে পড়েছেন। তাই মোবাইল ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি। অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে স্বামী বা পরিবারের কাউকে দিয়ে রিসিভ করানো যেতে পারে। গায়রে মাহরাম পুরুষের সঙ্গে প্রয়োজনে কথা বলতে হলে সংযমী ও অনাকর্ষণীয় কণ্ঠে কথা বলা উচিত—যেমনটি কুরআনে নির্দেশ রয়েছে।
ইসলামের পর্দা বিধান শুধু পোশাক নয়, এটি নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার ঢাল। আজ সমাজে যত অস্থিরতা, তার মূল কারণ ইসলামী নির্দেশনা থেকে দূরে সরে যাওয়া। আল্লাহর বিধান মেনে চললেই প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা পাওয়া সম্ভব। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো পরিপূর্ণভাবে ইসলামে ফিরে আসা এবং নিজেদের ও পরিবারকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাযত করুন এবং ইসলামী জীবনচর্চার তাওফিক দিন। আমীন।