সূদ কী?
ইসলামে সূদ বা রিবা সম্পূর্ণরূপে হারাম। রিবা শব্দের অর্থ অতিরিক্ত বা বর্ধিত। মূলধনের ওপর অতিরিক্ত প্রাপ্তি সূদ হিসেবে গণ্য হয়। এটি নগদ বা পণ্য বিনিময়ে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সমপরিমাণ স্বর্ণ বা রূপার বদলে অতিরিক্ত গ্রহণ করা হলে তা সূদ।
সূদের প্রকার
সূদ দুই ধরনের: রিবা আল-ফাযল এবং রিবা আন-নাসীআহ।
- রিবা আল-ফাযল: সমজাতীয় পণ্যে অতিরিক্ত গ্রহণ।
- রিবা আন-নাসীআহ: সময়সাপেক্ষ লেনদেনে অতিরিক্ত প্রাপ্তি।
উভয়ই হারাম। তবে ভিন্ন ধরনের পণ্যের নগদ লেনদেনে সূদ হয় না।
সূদ এড়ানোর উপায়
যদি সমজাতীয় পণ্যের মান ভিন্ন হয়, তাহলে বিকল্প উপায় আছে। উদাহরণস্বরূপ, নিম্নমানের খেজুর বিক্রি করে সেই অর্থে ভালো খেজুর কেনা। এই পদ্ধতি ইসলামে বৈধ।
আরও পড়ুন >> ইসলামের পর্দা-বিধান ও আমাদের অসতর্কতা
সূদ হারামের প্রমাণ
ইসলামে সূদ সম্পূর্ণ হারাম। কুরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ আছে। সূদ খাওয়া, দেয়া বা এর সাথে যুক্ত হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিসে বলা হয়েছে, সূদ খাওয়া ৩৬ বার ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য। সূদের পাপের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো নিজের মায়ের সাথে বিবাহ বা ব্যভিচার করা।
আরও পড়ুন >> ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার
নাম পরিবর্তনেও সূদ বৈধ নয়
সূদের নাম পরিবর্তন, যেমন ‘মুনাফা’ বা ‘ইন্টারেস্ট’, তা বৈধ করে না। পদ্ধতি পরিবর্তন করলেও সূদ tetap সূদই থাকবে।
জাহেলী যুগে সূদ
জাহেলী যুগে আরবের লোকেরা ঋণের উপরে অতিরিক্ত আদায় করত। করযে হাসানার ওপরও অতিরিক্ত আদায় করা হতো। একই ধরনের পণ্যের বিনিময়ে অতিরিক্ত নেওয়াকে রিবা আল-ফাযল বলা হয়। এই কারণে সমাজে দারিদ্র্য, লোভ ও স্বার্থপরতা বৃদ্ধি পেত।
মানব জীবনে সূদের ক্ষতি
সূদ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতি তৈরি করে। এটি মানুষের মধ্যে সহানুভূতি কমায়। লোভী ও স্বার্থপর লোকেরা মানুষের জীবন ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করে। সূদের ক্ষতি দুইভাবে দেখা যায়: পার্থিব জীবন এবং পরকালীন জীবন।
পার্থিব জীবনের ক্ষতি
১. দুনিয়াবী নিঃস্বতা: সূদ প্রাথমিকভাবে লাভ দেখালেও শেষ পর্যন্ত নিঃস্বতা আসে।
২. আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতা: সূদ খাওয়া আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতা।
৩. যুদ্ধের সমতুল্য কাজ: সূদ খাওয়া আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার সমান।
৪. অভিশাপ: সূদ ভক্ষণকারী, দেয়া, লেখক ও সাক্ষীদের উপর অভিশাপ রয়েছে।
৫. ধ্বংস ও বিনাশ: সূদ সমাজে ধ্বংস ও বিনাশের কারণ।
পরকালীন জীবনের ক্ষতি
১. আযাবের নিশ্চয়তা: সূদ খাওয়া আল্লাহর শাস্তি নিশ্চিত করে।
২. কবরের শাস্তি: বারযাখে সূদখোরের শাস্তি চলবে কিয়ামত পর্যন্ত।
৩. কিয়ামতের দিন শাস্তি: সূদখোর শয়তানের আছর রোগীর মতো দাঁড়াবে।
৪. ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নেই: অবৈধ আয় দ্বারা ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. জাহান্নামে বসবাস: অবৈধ খাদ্যে বৃদ্ধি হওয়া সম্পদ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।
সূদের পার্থিব ও পরকালীন ক্ষতি থেকে বাঁচতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। অতএব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত যেন তিনি আমাদের সূদ খাওয়া থেকে বাঁচানোর তাওফীক দেন।