ক্বিয়ামত পর্যন্ত মানব বংশ সংরক্ষণ, সমাজে মানববংশ বৃদ্ধি, ইসলামের পরিপূর্ণ অনুশীলন এবং যৌন চাহিদার বৈধ পরিপূরণের জন্য মহান আল্লাহ পরিবার প্রথা স্থাপন করেছেন। আদম ও হাওয়ার মাধ্যমে প্রথম মানব পরিবার গঠন করা হয়। পরিবার মানব সমাজের মূল ভিত্তি। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার, বিশ্বাস এবং সম্মানের মাধ্যমে পরিবার টিকে থাকে। অন্যদিকে, অধিকার হ্রাস বা বিশ্বাসে ঘাটতি থাকলে পরিবার ধ্বংস হয়। পরিবার-বিরোধী চিন্তা ও অনৈতিক সম্পর্ক পরকীয়ার দিকে পরিচালিত করে।
পরকীয়ার সংজ্ঞা
পরকীয়া হলো বিবাহিত নারী বা পুরুষের নিজ স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে প্রেম বা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা। এটি সমাজে নেতিবাচক হিসেবে গণ্য। বিবাহ বন্ধনের পর এ ধরনের সম্পর্ককে হারাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আরও পড়ুন >> ইসলামে ঘুষ: কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ভয়াবহ পরিণতি
পরকীয়ার প্রধান কারণ
১. ইসলামী শিক্ষার অভাব
ইসলাম মানব চরিত্র সংরক্ষণের জন্য বিবাহ ও যৌন আচরণের নিয়ম নির্ধারণ করেছে। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক হারাম এবং এর শাস্তি ভয়ঙ্কর। ইসলামী শিক্ষা না থাকলে মানুষ এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
২. সামাজিক ও আর্থিক কারণ
কিছু পুরুষ একাধিক বিবাহ করতে সক্ষম না হওয়ায় যৌন চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়। অপরদিকে, নারীরা পরিবারকে ভেঙে ফেলতে ভয় পাওয়ার কারণে অন্য পথে চলে। ফলে অনৈতিক সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
৩. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা
চাকুরি, ব্যবসা, শিক্ষা এবং অন্যান্য কারণে নারীরা বাড়ির বাইরে বেশি সময় ব্যয় করছে। একাকী আলাপচারিতা এবং সামাজিক মেলামেশার সুযোগে তারা আকৃষ্ট হয় এবং পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
৪. পর্দাহীনতা
নারী-পুরুষের দেখা-সাক্ষাৎ এবং অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন পরকীয়ার মূল উৎস। ইসলামে মহিলাদের পোশাক এবং আচরণে সংযমের নির্দেশ রয়েছে। পর্দাহীনতা ও অশ্লীল পোশাক মানুষকে আকৃষ্ট করে এবং অনৈতিক সম্পর্কের দিকে পরিচালিত করে।
৫. একাকী সময় কাটানো
গায়র মাহরাম নারী-পুরুষের একাকী দেখা, স্পর্শ বা নির্জন অবস্থান ইসলামে নিষিদ্ধ। এ ধরনের পরিস্থিতি শয়তানের প্রলোভনের সুযোগ তৈরি করে।
৬. ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে
সন্তানদের মতামত না নিয়ে বিয়ে দিলে পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি পায়। তা পরকীয়ার দিকে ধাবিত করে।
৭. দৈহিক ও মানসিক অক্ষমতা
যৌন চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা বা মনোযোগের অভাব মানুষকে অন্যত্র আকৃষ্ট করে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শূন্যতা বা দূরত্ব পরকীয়ার প্রধান কারণ।
৮. আধুনিক পোশাক এবং পশ্চিমা সংস্কৃতি
টাইট, পাতলা বা উজ্জ্বল পোশাক এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব নারীদের আকর্ষণ বাড়ায়। এটি পরকীয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
৯. প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যম
মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয় তৈরি সহজ হলেও, অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগও বৃদ্ধি পায়।
১০. আইনগত দুর্বলতা
পরকীয়া আইনে অপরাধ নয়। তবে স্বামী বা স্ত্রী চাইলে আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে। পরকীয়ার কারণে আইনগত শাস্তি সীমিত।
প্রতিকার
- ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষার প্রচার
- পর্দা, সংযম ও সৎ আচরণ বজায় রাখা
- গায়র মাহরামের সাথে একাকী সময় কাটানো থেকে বিরত থাকা
- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন ও মানসিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা
- ছেলে-মেয়ের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিয়ে প্রদান
- প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ
- সঠিক পোশাক এবং আচরণের মাধ্যমে আকর্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা
পরকীয়া প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ এবং আইন একযোগে কাজ করলে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় কমানো সম্ভব। ইসলামী বিধান মেনে জীবন যাপন ও সতর্কতা অবলম্বন করাই মূল প্রতিকার।