পবিত্রতা (ত্বহারাহ) এবং ইসলামে এর গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে শুধুমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি ইবাদতের নিয়ম ও পদ্ধতি কুরআন ও হাদীছে জানিয়ে দিয়েছেন। ইসলামে সকল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো ছালাত। ছালাত আদায়ের পূর্বশর্ত হলো পবিত্রতা। এজন্য মুহাদ্দিস ও ফকীহরা পবিত্রতা অধ্যায় দিয়ে কিতাব লিখা শুরু করেছেন। পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।

ত্বহারাহ-এর অর্থ

ত্বহারাহ-এর আভিধানিক অর্থ হলো পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধতা এবং পবিত্রতা। পারিভাষিক অর্থে ত্বহারাহ দুটি ভাগে বিভক্ত:

১. অন্তরগত পবিত্রতা (অর্থগত)
এটি অন্তরের পবিত্রতা বোঝায়। অর্থাৎ আল্লাহর সঙ্গে ইবাদতে শরীক না করা, হিংসা, বিদ্বেষ এবং গোপন শত্রুতা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। এটি কোনো বাহ্যিক অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিরক দ্বারা অন্তরের অপবিত্রতা পানি দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়।

২. বাহ্যিক পবিত্রতা (অনুভবযোগ্য)
এটি শরীর ও কাপড়ে থাকা নাপাকি দূর করার মাধ্যমে অর্জিত হয়।

  • ছোট নাপাকি: পেশাব, বায়ু নিঃসরণ ইত্যাদি। ওযূর মাধ্যমে দূর করা সম্ভব।
  • বড় নাপাকি: স্ত্রীসহবাস বা স্বপ্নদোষের ফলে বীর্যপাত। গোসল ব্যতীত পবিত্রতা অর্জন সম্ভব নয়।

শরীরে বা কাপড়ে থাকা পেশাব, পায়খানা ইত্যাদি দূর করার জন্য পানি ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন >> হালাল জীবিকা: গুরুত্ব ও হারাম উপার্জনের ক্ষতিকর দিক

পবিত্রতা অর্জনের হুকুম

নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জন করা ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন, “তোমার পোশাক পবিত্র রাখ।” হাদীশেও এসেছে, পবিত্রতা ব্যতীত ছালাত এবং হারাম মালের দান কবুল হয় না।

পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্বের কিছু বিষয়:

  • ছালাতের স্বীকৃতির জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন।
  • আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন।
  • কবরের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে পবিত্র থাকা জরুরি।

পানি সংক্রান্ত মাসআলা

পবিত্রতা অর্জনের পানি তিন প্রকার:

  1. ত্বাহূর: নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম। যেমন: নদী, সমুদ্র, ঝরনার পানি।
  2. ত্বাহের: নিজে পবিত্র, অন্যকে পবিত্র করতে অক্ষম। যেমন: ফলের রস, মিশ্রিত পানি। এগুলো দ্বারা ওযূ বৈধ নয়।
  3. নাজাস: অপবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করতে অক্ষম।

পানিতে অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হলে রং, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হলে তা ব্যবহার করা যাবে না।
পানিতে পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হলে, যদি মূল গুণাবলী অপরিবর্তিত থাকে, পানি বৈধ।

গরম ও ব্যবহারিক পানি

  • গরম পানি যদি অপবিত্র বস্তু ব্যবহার করে গরম করা হয়, এবং পাত্র খোলা থাকে, তা মাকরূহ।
  • গরম পানি যদি সূর্যের তাপে বা পবিত্র বস্তু ব্যবহার করে গরম করা হয়, সমস্যা নেই।
  • ব্যবহারিক পানি, যেমন ওযূর পানি, পবিত্র থাকলে পুনরায় ব্যবহার করা বৈধ। নবী (ছাঃ) এবং ছাহাবীরা একই পাত্র থেকে একত্রে ওযূ করেছেন।

মানুষের ও পশুর উচ্ছিষ্ট

  • মানুষের উচ্ছিষ্ট সব অবস্থায় পবিত্র।
  • পশুর উচ্ছিষ্ট: হালাল পশুর উচ্ছিষ্ট পবিত্র। হারাম পশুর ক্ষেত্রে মতভেদ আছে। কুকুর ও শূকরের উচ্ছিষ্ট অপবিত্র।

নির্দিষ্ট হাদীশে এসেছে, পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সাতবার ধৌত করতে হবে, যা প্রমাণ করে কুকুরের উচ্ছিষ্ট অপবিত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top