কয়েকদিন আগে আমার এক প্রিয় তালিবে ইলম দেখা করতে এসে জানাল, পরশু তার বিবাহ। কথাটি শুনে আমি বিস্মিত হলাম। তার চোখেমুখে প্রস্তুতির চিহ্ন ছিল না। বরং মনে হলো, সে বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছে। তখনই উপলব্ধি করলাম, আমাদের সমাজে বিবাহকে এখনো মূলত আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
দাম্পত্য জীবনের জন্য মানসিক প্রস্তুতির অভাব
সাধারণত মানুষ যেকোনো কাজের আগে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের মতো জটিল দায়িত্বে প্রবেশ করা হয় প্রায় কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। ফলে সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। অনেক সময় সম্পর্ক ভেঙে যায়। অন্যদিকে, সন্তানরাও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন >> হিসবা ইসলামে কী: আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের পূর্ণ ব্যাখ্যা
শিক্ষা না থাকলে সংসার টিকে না
দাম্পত্য জীবন শুধু আবেগের উপর নির্ভর করে না। এখানে প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং বোঝাপড়া প্রয়োজন। অথচ এই বিষয়গুলো শেখানোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। ফলে নতুন দম্পতিরা সমস্যার মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে যায়।
মা-বাবার ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
অধিকাংশ সন্তান সমস্যায় পড়লে মা-বাবার কাছে যেতে ভয় পায়। কারণ তারা আগে তিরস্কার পাওয়ার আশঙ্কা করে। ফলে তারা বন্ধুদের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু বন্ধুরা সব সময় সঠিক সমাধান দিতে পারে না। তাই মা-বাবার উচিত সন্তানের নিরাপদ আশ্রয় হওয়া।
স্বামী-স্ত্রী থেকে বাবা-মা হওয়ার প্রস্তুতি
বিবাহের কিছুদিন পরেই দম্পতিরা বাবা-মা হয়ে যান। তবে আদর্শ বাবা-মা হওয়া সহজ নয়। এজন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রস্তুতি। সন্তান যেন কখনো বাবা-মাকে ঝগড়া করতে না দেখে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবাহের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝা জরুরি
অনেকে বিবাহ করে সংসারের কাজের সুবিধার জন্য। আবার কেউ কেবল সামাজিক চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এগুলো বিবাহের মূল উদ্দেশ্য নয়। আসলে বিবাহ মানে একসঙ্গে জীবনযাপন করা। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার দায়িত্বও বহন করে।
মায়ের অনুভূতি বোঝার দায়িত্ব স্বামীর
ছেলের জীবনে স্ত্রী আসলে মায়ের মনে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। এই অনুভূতি স্বাভাবিক। তাই স্বামীর উচিত মাকে আশ্বস্ত করা। একই সঙ্গে স্ত্রীকেও নিরাপত্তা দেওয়া দরকার। এই ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয়।
স্ত্রীর ত্যাগের মূল্যায়ন অপরিহার্য
বিবাহের সময় মেয়েটিই সবচেয়ে বেশি ত্যাগ করে। সে পরিবার, পরিবেশ এবং পরিচিত জীবন ছেড়ে আসে। ফলে শুরুতেই তার উপর চাপ সৃষ্টি করা অন্যায়। বরং সময় দিতে হয়। ধৈর্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়।
সংশোধনে কঠোরতা নয়, প্রজ্ঞা দরকার
স্ত্রীর কোনো আচরণ অপছন্দ হলে আগে নিজের ভুল খুঁজতে হয়। এরপর ভালো দিকগুলোর প্রশংসা করা উচিত। তারপর শান্তভাবে সংশোধনের কথা বলা যায়। কারণ কঠোরতা সংসার ভাঙে, কিন্তু ভালোবাসা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে।
সুস্থ দাম্পত্য জীবনের মূল চাবিকাঠি
দাম্পত্য জীবন সফল হয় পারস্পরিক সম্মানে। এখানে কেউ ভোগের বস্তু নয়। স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের সম্পদ। শারীরিক সম্পর্কও হওয়া উচিত অনুভূতি ও সম্মানের ভিত্তিতে।
সবশেষে বলা যায়, দাম্পত্য জীবন কোনো হঠাৎ শুরু হওয়া যাত্রা নয়। এটি সচেতন প্রস্তুতির ফল। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে সংসার হয় শান্তির আশ্রয়। অন্যথায় অপ্রস্তুতি পুরো জীবনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে।