কুরআন হল আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর অবতীর্ণ পবিত্র গ্রন্থ। এতে মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান নিহিত রয়েছে। কুরআন তেলাওয়াত করলে প্রতিটি বর্ণের বিনিময়ে দশটি নেকী অর্জিত হয়। এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য, কারণ বিশ্বের অন্য কোনো গ্রন্থে তেলাওয়াতের মাধ্যমে জ্ঞান ও ছওয়াব একসাথে অর্জন করা যায় না। কুরআন তেলাওয়াতকারী ব্যক্তি জান্নাতের উচ্চতম মর্যাদা লাভ করবে এবং ফেরেশতাদের সঙ্গে অবস্থান করবে। তবে কুরআনের বিধি শুধুমাত্র জীবিত ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য।
জীবিত ব্যক্তির নিকট কুরআন তেলাওয়াত
কুরআন তেলাওয়াত জীবিত ব্যক্তির নিকট শ্রবণ করা বৈধ। যে ব্যক্তি সুস্থ বা মুমূর্ষু অবস্থায় থাকুক, তার পাশে বসে কুরআন তেলাওয়াত করা যায়। তেলাওয়াতকারী এবং শ্রবণকারী উভয়ই নেকী অর্জন করবে। নবী (ছাঃ) নিজেও ছাহাবীদের কুরআন তেলাওয়াত শুনতেন। মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট কুরআন তেলাওয়াত করলে তার জন্য প্রার্থনা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন >>> ইসলামে আমানত: গুরুত্ব, ধরন ও নেতৃত্বের শিক্ষা
মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য করণীয়
মুমূর্ষু ব্যক্তির সুস্থতার জন্য দো‘আ করা উচিত। যদি মনে হয় ব্যক্তি মরণাপন্ন, তবে তাকে কালেমা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পাঠের মাধ্যমে তালক্বীন দেওয়া যায়। এটি ইসলামী বিধান এবং নবীর (ছাঃ) সুন্নতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কালেমা পাঠের মাধ্যমে মুমিনদের আত্মা শান্তিপূর্ণভাবে মুক্ত হয়। অমুসলিম ব্যক্তিকেও উদারভাবে কুরআনের বার্তা বা কালেমা শেখানো যেতে পারে, তবে কোনরূপ চাপ সৃষ্টি করা ঠিক নয়।
মৃত ব্যক্তির নিকট কুরআন তেলাওয়াত
কুরআন তেলাওয়াত মৃত ব্যক্তির নিকট বা কবরস্থানে সম্পূর্ণ বিদ‘আত। ইসলামের সূত্র অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির জন্য কেবল দো‘আ, দান-ছাদাক্বা ও নেক সন্তানের দো‘আ কার্যকর। সালাফে ছালেহীনরা কখনো মৃতের নিকট কুরআন তেলাওয়াত করতেন না। মুমূর্ষু বা মৃত ব্যক্তির পাশে সূরা ইয়াসীন বা অন্য সূরা পাঠের প্রচলিত পদ্ধতি বিদ‘আত হিসেবে বিবেচিত।
আরও পড়ুন >> Heart Disease Diet and Prevention: Foods, Habits & Lifestyle Tips
মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের করণীয়
মুমূর্ষু ব্যক্তি মারা গেলে তার চোখ বন্ধ করে দো‘আ করতে হবে। গোসল ও কাফন পরানো এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা উচিত। জানাযার ছালাত আদায় করে দাফন কার্য সম্পন্ন করতে হবে। দো‘আ-এর সময় ‘আল্লাহুম্মাগফিরলাহু ওয়া ছাবিবতহু’ বা অনুরূপ দো‘আ পাঠ করা যাবে। মৃতদের জন্য তিন দিনের শোক পালন করা যেতে পারে। স্ত্রী বা স্বামী চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে পারেন।
মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর আমল হলো:
- দান-ছাদাক্বা (সদকায়ে জারিয়াহ)
- এমন জ্ঞান, যা অন্যদের উপকারে আসে
- নেক সন্তান, যারা তার জন্য দো‘আ করে
এছাড়া সালাফদের নীতি অনুসারে, মৃত ব্যক্তির নেক কাজের জন্য দো‘আ ও দান-ছাদাক্বা করা শ্রেয়।
কুরআন তেলাওয়াত জীবিত ব্যক্তির জন্য নেকীর কাজ। তবে মৃত ব্যক্তির নিকট তেলাওয়াত সম্পূর্ণ বিদ‘আত। মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে সূরা ইয়াসীন পাঠের বিধান ইসলামে নেই। জীবিত মুসলমান কুরআনের যেকোনো সূরা পাঠ এবং শ্রবণ করতে পারে এবং এর মাধ্যমে নেকী অর্জন করবে। আমাদের উচিত কেবল ছহীহ হাদীছ ও কুরআনের নির্দেশ অনুসারে আমল করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে কুরআন অনুযায়ী সঠিকভাবে তেলাওয়াত ও আমল করার তাওফীক দান করুন – আমীন।