মহিলাদের ঋতুস্রাব: হায়েয, নিফাস ও ইস্তিহাযা নিয়ম

মহিলাদের লজ্জাস্থান থেকে যে রক্ত নির্গত হয়, তা তিন প্রকারে বিভক্ত:

  1. হায়েযের রক্ত: এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্দিষ্ট সময়ে নির্গত, কালো, গাঢ় এবং দুর্গন্ধযুক্ত।
  2. নিফাসের রক্ত: সন্তান প্রসবের পরে নির্গত রক্তকে নিফাস বলা হয়।
  3. ইস্তিহাযার রক্ত: হায়েয ও নিফাসের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে যে রক্ত আসে, তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হয়।

হায়েযের সময়সীমা ও নিয়ম

হায়েযের সময় প্রতিটি নারীর নিয়মের উপর নির্ভর করে। কেউ নিয়মিত তিন দিন হায়েয হয়, কেউ পাঁচ দিন। অতিরিক্ত বা কম দিন হলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।

নারীদের হায়েযকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:

  1. আরম্ভ (মুবতাদাহ): প্রথম হায়েয শুরু হওয়া নারী নিজের যে কয়দিন রক্ত দেখবে, সেই দিনগুলো হায়েয হিসেবে গণ্য করবে।
  2. অভ্যস্ত (মুয়াদাহ): যাদের নিয়মিত সময় আছে, সেই অনুযায়ী প্রতিমাসে হায়েযের দিন গণ্য হবে। অতিরিক্ত বা কম দিন প্রথম তিন মাস লক্ষ্য করতে হবে, তারপর নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
  3. পার্থক্য নিরূপিত (মুতমাইয়্যাযাহ): হায়েয ও ইস্তিহাযার রক্তের পার্থক্য চারটি লক্ষণ দিয়ে বোঝা যায়:
    • রঙ: হায়েয কালো, ইস্তিহাযা লাল।
    • ঘনত্ব: হায়েয গাঢ়, ইস্তিহাযা পাতলা।
    • গন্ধ: হায়েয দুর্গন্ধযুক্ত, ইস্তিহাযা সাধারণ।
    • জমাটবদ্ধতা: হায়েয জমাটবদ্ধ হয় না, ইস্তিহাযা হয়।

রক্ত বন্ধ হয়ে আবার হায়েয দেখা দিলে, হায়েযের মধ্যে থাকলে বন্ধ দিনেরও হিসাব হায়েয হিসেবে হবে। বাইরে হলে তা ইস্তিহাযা।

আরও পড়ুন >> মাদক এবং ইসলাম: ক্ষতি, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকার


হায়েযের শেষ নির্ণয়

হায়েয শেষ হলে তুলা বা ন্যাকড়া ব্যবহার করে রক্ত শূন্য বা শুকনো হলে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। গোসলের পরে বের হওয়া হলুদ বা মেটে রঙের স্রাব হায়েযে অন্তর্ভুক্ত হবে না।


হায়েযের সময়ে নিষিদ্ধ কাজ

  1. সহবাস করা হারাম: হায়েয অবস্থায় সহবাস করা নিষিদ্ধ। যদি কেউ তা করে, নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ বা তার সমমূল্য দান করতে হবে।
  2. তালাক দেওয়া নিষিদ্ধ: হায়েযে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যাবে না। ইদ্দত পবিত্রতার পর দিতে হবে।
  3. ছালাত আদায় করা হারাম: হায়েযের সময় ছালাত বাদ দিতে হবে। পরবর্তী পবিত্রতার পর এটি আদায় করা যায় না।
  4. ছিয়াম হারাম: রামাযানে হায়েযের সময় ছিয়াম পালন করা হারাম। পরে কাযা আদায় করতে হবে।
  5. পবিত্র কা‘বা ঘরে তাওয়াফ হারাম।
  6. কুরআন স্পর্শ ও মসজিদে অবস্থান: হায়েয অবস্থায় কুরআন স্পর্শ ও মসজিদে অবস্থান করা যাবে না।

নিফাসের সময় ও বিধান

নিফাসের সর্বনিম্ন সময় নির্দিষ্ট নয়, তবে সর্বোচ্চ সময় ৪০ দিন। সন্তান প্রসবের পর রক্ত বন্ধ হলে পবিত্রতা ও ইসলামের সকল বিধান পালন করতে হবে। হায়েযের মতোই নিফাসেও সহবাস, ছালাত, ছিয়াম, কা‘বা তাওয়াফ ও মসজিদে অবস্থান হারাম।


ইস্তিহাযার মাসআলা

ইস্তিহাযা হায়েয ও নিফাসের বাইরে প্রবাহিত রক্ত। ইস্তিহাযার সময়:

  • ছালাত, ছিয়াম ও কা‘বা তাওয়াফ করা বৈধ।
  • সহবাস বৈধ।
  • মসজিদে অবস্থান ও ইতিকাফ করা অনুমোদিত।

ইস্তিহাযা চেনার তিনটি প্রধান উপায়:

  1. নিয়মিত হায়েযের বাইরে রক্ত প্রবাহিত হওয়া।
  2. রক্তের পার্থক্য বোঝা (গাঢ় কালো বনাম লাল পাতলা)।
  3. কোন আলামত না থাকা, তবে প্রথম ৭ দিনকে হায়েয গণ্য করে পরবর্তী দিন ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য করা।

আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে পাঠিয়েছেন, যাতে আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি। ইবাদত সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পবিত্রতা অর্জন অপরিহার্য। হায়েয, নিফাস ও ইস্তিহাযার নিয়ম অনুসরণ করে একজন নারী ইসলামের বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করতে পারে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top