জুমার দিনের ফযীলত ও আমল | জুমাবারের মর্যাদা ও গুরুত্ব

আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী জাতিগণকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিনে সম্মিলিত ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই শ্রেষ্ঠ দিনটি নির্ধারণে বিভ্রান্ত হয়েছিল। ইহুদীরা শনিবারকে এবং খ্রিস্টানরা রবিবারকে তাদের ইবাদতের দিন হিসেবে বেছে নেয়। অথচ আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে সম্মানিত দিন হলো জুমাবার। মহান আল্লাহ তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে এই শ্রেষ্ঠ দিনটি উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য নির্ধারণ করেছেন।

নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দুনিয়ায় আগমনের দিক থেকে মুসলমানরা শেষ হলেও মর্যাদা ও কিয়ামতের দিনের অগ্রাধিকারে তারা সবার আগে থাকবে। জুমার দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও উম্মতে মুহাম্মদী অন্য সকল জাতির চেয়ে অগ্রগামী। এই কারণেই জুমাবার মুসলমানদের জন্য শুধু সাপ্তাহিক ছুটি নয়, বরং ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহাসুযোগ।

জুমার দিন কেন শ্রেষ্ঠ

জুমার দিনকে সমস্ত দিনের সর্দার বলা হয়েছে। এই দিনে মানবজাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে। আদম আলাইহিস সালামকে এই দিন সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনই তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয় এবং এই দিনেই তাঁর ইন্তেকাল হয়। একই সঙ্গে কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই। এ কারণে এই দিনটি সৃষ্টি জগতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ।

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, জুমার দিন মানুষ ও জিন ছাড়া সকল প্রাণী কিয়ামতের আশঙ্কায় আতঙ্কিত থাকে। ভোর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত তারা এক অজানা ভয়ের মধ্যে অবস্থান করে। এই বিষয়টি জুমার দিনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

জুমার দিনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এই দিনে একটি বিশেষ সময় রয়েছে যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। যদি কেউ সেই সময়ে নিষ্ঠার সঙ্গে নামাযরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে দোয়া করে এবং হারাম কিছু না চায়, তবে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। কোন সময়টি সেই বিশেষ মুহূর্ত, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, যাতে মানুষ পুরো দিন জুড়ে ইবাদতে মনোযোগী থাকে।

রাতে আমল পেশ করা হয়

জুমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বান্দাদের আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তবে যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখে, তাদের আমল কবুল হয় না। এটি আমাদেরকে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

জান্নাতে জুমার দিন: ইয়াউমুল মাযীদ

জান্নাতে জুমার দিন হবে বিশেষ আনন্দ ও মহা প্রাপ্তির দিন। এই দিনটিকে জান্নাতবাসীরা ‘ইয়াউমুল মাযীদ’ নামে স্মরণ করবে। আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদের জন্য বিশেষ সম্মান, পোশাক, খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করবেন। সর্বোপরি, জান্নাতীরা আল্লাহ তাআলার দিদার লাভ করবে, যা জান্নাতের সর্বোচ্চ নেয়ামত।

আরও পড়ুন >> ইখলাছ: অন্তরের আমলের প্রাণ ও ইবাদতের মূলভিত্তি

জুমার দিনের প্রধান আমল

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো যথাযথভাবে জুমার নামায আদায় করা। এর জন্য গোসল করে পবিত্র হওয়া, পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। সময়মতো মসজিদে পৌঁছে নফল নামায, জিকির ও দোয়ায় সময় কাটানো উচিত।

খুতবা শুরু হলে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে শোনা আবশ্যক। খুতবার সময় কথা বলা, অন্যকে বিরক্ত করা বা সামনে যাওয়ার জন্য লোক ডিঙানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব আদব রক্ষা করে জুমার নামায আদায় করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায়। কোনো কোনো হাদীসে অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ মাফের কথাও এসেছে।

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর এক মহামূল্যবান উপহার। এই দিনের যথাযথ সম্মান রক্ষা করা এবং সুন্নত অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। নিয়মিত ও যত্নের সঙ্গে জুমার নামায আদায় করলে আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মাফ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ সম্ভব হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের ফযীলত অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top