মানুষের জীবন সাধারণত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত: শৈশব, কৈশোর ও বার্ধক্য। শৈশব ও কৈশোরে চিন্তার পূর্ণ বিকাশ ঘটে না। বার্ধক্যে যদিও জ্ঞান থাকে, তবু শক্তি ও উদ্যম কমে যায়। তবে যৌবনকাল একমাত্র সময়, যখন মানুষের চিন্তাশক্তি, কর্মক্ষমতা, মননশক্তি ও ইচ্ছাশক্তি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এই সময় মানুষ অসাধ্য সাধনে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে। যৌবনকালকে আল্লাহর পথে ব্যয় করা হলে এটি মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়ে পরিণত হয়।
নবী করীমের (ছাঃ) উপদেশে যৌবনকাল
নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, জীবনের পাঁচটি মূল্যবান দিককে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যৌবনকাল। যুবকরা তাদের শক্তি ও সময়কে সঠিক কাজে ব্যবহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলে তাদের জীবন সার্থক হয়। তাই যৌবনকালকে নষ্ট করা নয়, বরং তা কল্যাণ ও সৎ কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা উচিত।
ইসলামী ইতিহাসে যুবকদের ভূমিকা
ইসলামের ইতিহাসে যুবকদের অবদান অনন্য। ইসমাঈল (আঃ) পিতার নির্দেশ পালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেছিলেন। ইউসুফ (আঃ) তার সততা ও ধৈর্য দিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রাচীন যুগে একজন যুবক নিজের সাহসী পদক্ষেপে জনসাধারণকে নিরাপদ করেছে এবং শতাধিক মানুষকে আল্লাহর পথে অনুপ্রাণিত করেছে। হজ ও ইসলামের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিষ্ঠায় যুবকদের অবদান অপরিসীম। বদর, খন্দক ও তাবুকের যুদ্ধে যুবকরা তাজা রক্ত উৎসর্গ করে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করেছে।
যুবশক্তি: ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় প্রতিরোধ
যুবকের শক্তি এবং উদ্যম জাতীয় কল্যাণে ব্যবহার করলে এটি অমোঘ ফল দেয়। যুবকের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা, আত্মবিশ্বাস এবং তেজোদীপ্ত মনোভাব তাকে সৎ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী করতে সক্ষম করে। তবে এই শক্তি ভুল পথে গেলে অন্যায় প্রতিষ্ঠার কারণও হতে পারে। তাই যুবকরা তাদের শক্তিকে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, সমাজ সংস্কার এবং অসত্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে হবে।
আরও পড়ুন >> মানবিক মূল্যবোধ ও ঈমানের গুরুত্ব: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
বর্তমান সমাজ ও যুবদের দায়িত্ব
আজকের সমাজে দুর্নীতি, হিংসা, অসচেতনতা এবং অশিক্ষার দিক থেকে সমাজ বিপর্যস্ত। ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধ, লুটতরাজ, নারী অধিকারকে ভ্রান্তভাবে প্রয়োগ ইত্যাদি যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করেছে। তাই যুবকদের দায়িত্ব হলো তাদের শক্তি, জ্ঞান ও সময়কে আল্লাহর পথে, সমাজ সংস্কারে এবং জাতীয় কল্যাণে ব্যয় করা।
যৌবনকালকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার উপায়
- আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত থাকা
- শিক্ষায় মনোযোগী হওয়া
- সমাজের কল্যাণে অংশগ্রহণ করা
- অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া
ইসলামী ইতিহাস থেকে প্রমাণিত হয়েছে, যুবকরা যদি সঠিক পথে পরিচালিত হয়, তারা অসাধ্য সাধনে সক্ষম। ইসলামের বিজয় ও সমাজ সংস্কারে যুবকদের অবদান অনন্য।
যৌবনকাল মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। যুবকরা তাদের শক্তি, উদ্যম ও সাহসকে সৎ কাজে ব্যবহার করলে, জাতি, সমাজ এবং নিজ জীবনের কল্যাণ নিশ্চিত হয়। তাই আসুন, আমরা আমাদের যৌবনকালকে আল্লাহর পথে ব্যয় করি, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিজেদের নিয়োজিত করি। এতে আমাদের যৌবনকাল সার্থক হবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।