ইসলামে মানুষের জীবনকে উদ্দেশ্যহীন বলা হয়নি। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। ইবাদত শুধু নামাজ-রোজা নয়; বরং সব কথা ও কাজ যা আল্লাহ পছন্দ করেন তা-ই ইবাদত।
রোজা রাখার পর মুসলমানদের ত্রুটি সংশোধনের জন্য আল্লাহ সাদাকাতুল ফিতর বিধান নির্ধারণ করেছেন। এটি রমজানের রোজাকে পরিশুদ্ধ করে এবং দরিদ্রদের ঈদ আনন্দে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
সাদাকাতুল ফিতর কার উপর ফরজ
সাদাকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলিমের উপর বাধ্যতামূলক, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, ছোট হোক বা বড়। ঈদের দিন জীবিত থাকলে তার পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে হবে।
একজন ব্যক্তি যদি ঈদের আগেই মৃত্যুবরণ করে, তার উপর ফিতরা নেই। তবে ঈদের দিন কোনো শিশু জন্ম নিলে তার পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে হবে।
ফিতরা শুধু সম্পদের উপর নির্ভরশীল নয়, এটি শরীরের শোকরিয়া হিসেবে গণ্য হয়। তাই রোজা রাখতে সক্ষম না হলেও ফিতরা আদায় করতে হয়।
ফিতরার পরিমাণ কত
রাসূলের যুগে ফিতরার পরিমাণ নির্ধারিত ছিল এক “সা” খাদ্যশস্য। এটি সময় ও অঞ্চলের খাদ্য অনুযায়ী ভিন্ন হলেও সাধারণভাবে প্রায় আড়াই কেজি খাদ্যের সমান ধরা হয়।
চাল, গম, খেজুর, যব বা স্থানীয় প্রধান খাদ্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়।
ইসলামি স্কলারদের মতে, নির্ধারিত পরিমাণ পরিবর্তন করা উচিত নয়। কারণ এটি নবীজির নির্ধারিত নিয়মের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
আরও পড়ুন >> ছাদাক্বার গুরুত্ব ও ফযীলত: দানের মাধ্যমে সফল পরকাল গড়ার উপায়
ফিতরা আদায়ের সময়
ফিতরা ঈদের নামাজের আগে আদায় করা সবচেয়ে উত্তম। ঈদের এক-দুই দিন আগেও আদায় করা যায়।
নবীজির নির্দেশ অনুযায়ী, ঈদের সালাতের আগে ফিতরা পৌঁছে দিতে হবে। যদি কেউ ঈদের পর দেয়, তাহলে তা সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে।
ফিতরা সঠিক সময়ে আদায় করলে দরিদ্ররা ঈদের আগে প্রয়োজন পূরণ করতে পারে এবং আনন্দে অংশ নিতে পারে।
কারা গ্রহণ করবে
ফিতরা দরিদ্র ও অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। কুরআনে আল্লাহ দরিদ্র, মিসকিন এবং প্রয়োজনগ্রস্তদের হক নির্ধারণ করেছেন।
যাকাতের আটটি খাতের মধ্যেও ফিতরা বিতরণ করা যায়, যেমন দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত, পথিক ও অন্য প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষ।
এভাবে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হয় এবং ধনী-গরিবের দূরত্ব কমে আসে।
খাদ্যশস্য দিয়ে ফিতরা দেওয়ার বিধান
ইসলামের মূল নির্দেশনা হলো খাদ্যশস্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা। নবীজির যুগে মানুষ যব, খেজুর, কিশমিশ এবং অন্যান্য খাদ্য দিয়ে ফিতরা দিত।
বর্তমান সময়ে যেহেতু অনেক দেশের প্রধান খাদ্য চাল, তাই চাল দিয়ে ফিতরা দেওয়া উত্তম।
অনেক আলেম খাদ্যের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছেন, তবে মূল সুন্নাহ খাদ্যশস্য প্রদানই নির্দেশ করে।
ফিতরা কেন পরিবর্তন করা উচিত নয়
ফিতরার পরিমাণ ও পদ্ধতি পরিবর্তন করলে সমাজে অসাম্য তৈরি হতে পারে। একই পরিমাণ খাদ্য দিলে ধনী-গরিব সবাই সমানভাবে দায়িত্ব পালন করে।
যদি টাকা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে বাজার দামের কারণে পার্থক্য তৈরি হয় এবং মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
ইসলাম সহজ ও নির্ভুল বিধান দিয়েছে, তাই এতে পরিবর্তন আনা উচিত নয়।
সাদাকাতুল ফিতর শুধু একটি দান নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি রোজাকে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজে সহমর্মিতা তৈরি করে।
প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নির্ধারিত সময়ে ও নির্ধারিত পরিমাণে ফিতরা আদায় করা। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয় এবং দরিদ্ররা ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে।