সুন্নাত বলতে বোঝায় রাসুলুল্লাহ (স) এর প্রতিটি কাজ, কথা এবং অনুমোদন। হাদীস শাস্ত্রে সুন্নাত মূলত সুন্নাতে নববী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ফরয, ওয়াজিব, নফল এবং মুবাহ সকল প্রকার কাজই এর অন্তর্ভুক্ত।
সরলভাবে বলা যায়, রাসুল (স) যেভাবে কাজ করেছেন বা বর্জন করেছেন, সেই পদ্ধতি, সময়, পরিমাণ এবং ক্ষেত্রে কাজ করা বা বর্জন করাই সুন্নাত। সুন্নাত মানে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য অনুসরণ করা।
কেউ যদি নিজের স্বার্থ বা অসুবিধা অনুযায়ী সুন্নাত পরিবর্তন করে, তা বিদায়াত। উদাহরণস্বরূপ, অতিরিক্ত নফল রোযা বা তাহাজ্জুদ স্থায়ী রীতি হিসেবে করা যা সুন্নাতের সাথে মেলে না, তা বিদায়াত।
সুন্নাতে সাহাবা ও খুলাফায়ে রাশেদীন
সাহাবাগণ সুন্নাত যথাযথভাবে মানতেন। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত মত অনুযায়ী কাজকে শরীয়াতের দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় কিনা তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে।
খুলাফায়ে রাশেদীন—আবু বকর, উমার, উসমান এবং আলী (রা)—রাষ্ট্র ও সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে সুন্নাতের আলোকে কাজ করেছেন। যুদ্ধ, প্রশাসন, কুরআনের সংকলন, জুমুয়ার আযান—এসবের মাধ্যমে তারা মুসলিম সমাজে সুন্নাত বাস্তবায়ন করেছেন।
আরও পড়ুন >> পরকীয়া: কারণ ও প্রতিকার
বিদায়াত: সংজ্ঞা ও শর্ত
বিদায়াত হলো এমন নতুন কাজ যা ইসলাম বা রাসুল (স) এর সুন্নাতের সাথে মিলিত নয়। এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে করা হলেও সুন্নাতের ভিত্তিতে হয় না।
বিদায়াত চিহ্নিত করার মূল শর্ত:
- রাসুল (স) বা সাহাবাগণ করেননি।
- ইসলামের মূলনীতি (কুরআন, সুন্নাত, সলফে সালেহীন) অনুসারে নয়।
- নতুন উদ্ভাবিত কাজ যা সুন্নাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- শারীয়তের সীমা বা উদ্দেশ্যের বিরোধী।
ড. মঞ্জুরে এলাহী ১৫টি নির্দেশনা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, জাল হাদীসের ভিত্তিতে ইবাদত করা, নতুন স্থান বা সময় নির্ধারণ করে ইবাদত করা, ইসলামের স্বীকৃত সীমা পরিবর্তন করা।
বিদায়াতের বিভাজন এবং মতভেদ
কিছু আলেম বিদায়াতকে হাসানাহ (ভালো) ও সাইয়্যিয়াহ (মন্দ) ভাগ করেছেন। তবে এটি মূলত আভিধানিক অর্থের ভিত্তিতে। শার’ঈ দৃষ্টিকোণ থেকে বিভাজন প্রায়শই বিভ্রান্তিকর।
উমার (রা) ও উসমান (রা) কর্তৃক প্রবর্তিত কিছু উদাহরণ—যেমন জামায়াতে তারাবীহ নামায বা জুমুয়ার প্রথম আযান—বিদায়াত নয়। এগুলো সুন্নাতকে জাগ্রত করেছে এবং ইসলামের উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি।
ইজমা, কিয়াস ও ইজতিহাদ: বিদায়াত নয়
ইজমা, কিয়াস ও ইজতিহাদ বিদায়াত নয়। এগুলো ইসলামের মূলনীতির ভিত্তিতে নতুন সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। তবে কোন বিষয়ে সীমার বাইরে গেলে তা বিদায়াত হবে না।
সুন্নাত অনুসরণ ও বিদায়াত এড়ানো প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। সুন্নাত মানে রাসুল (স) এর সম্পূর্ণ জীবনধারা অনুসরণ। বিদায়াত হলো নতুন উদ্ভাবিত কাজ যা সুন্নাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে চলাই ইসলামের সঠিক পথ।