দ্বীনের উপর অটল থাকা (ইসতিক্বামাত)

মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) যখন নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে সফরের আগে দো‘আ চাইলেন, তখন তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশিত হলেন:

  1. আল্লাহর একনিষ্ঠ ইবাদত ও শরীক ত্যাগ।
  2. পাপের পর নেকী করা।
  3. দ্বীনের উপর অটল থাকা এবং উত্তম চরিত্র গঠন করা।

এখান থেকে বোঝা যায় যে, ইসতিক্বামাত কেবল আল্লাহর প্রতি আনুগত্য নয়, বরং মানুষের সাথে ন্যায়পরায়ণ ও সদ্ব্যবহারেও প্রয়োগ করতে হয়।


ইসতিক্বামাতের দুই দিক

  1. হকের সাথে অটল থাকা: আল্লাহর আদেশ মেনে অবিচল থাকা এবং পাপ থেকে দূরে থাকা।
  2. সৃষ্টির সাথে অটল থাকা: মানুষের অধিকার সঠিকভাবে আদায় করা এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা।

নবী করীম (ছাঃ) মু‘আয (রাঃ)-কে নির্দেশ দিয়েছেন: “দ্বীনের উপর অটল থাক এবং চরিত্রকে উত্তম কর।”


আরও পড়ুন >> বিদায়াত: সুন্নাতের বিপরীত এবং ইসলামের সতর্কতা


ছালাত ও ইসতিক্বামাত

ছালাত দ্বীনের উপর অটল থাকার প্রধান মাধ্যম। আল্লাহ বলেন:
“ছালাত অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (আনকাবূত ২৯/৪৫)

ছালাতের মাধ্যমে অন্তরে আলো সৃষ্টি হয়, যা নেকী ও হক-অসত্য পার্থক্য নির্ধারণে সাহায্য করে। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ছালাত মুমিনের অন্তরে ঈমানের আলো প্রবাহিত করে।


ধৈর্য ও তাক্বওয়ার ভূমিকা

দ্বীনের পথে ধৈর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন:
“ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।” (বাক্বারাহ ২/১৫৩)

ধৈর্য ঈমানের একটি মূল ভিত্তি। ধৈর্যশীল ব্যক্তির অন্তরে সত্য ও সঠিক পথ স্থির থাকে, যা তাকে বিপদ, কষ্ট ও পরীক্ষার সময় হক ও মন্দের পার্থক্য করতে সাহায্য করে।


ইসতিক্বামাত অর্জনের উপকরণ

  1. দো‘আ করা: সরল পথে চলার জন্য এবং দ্বীনে অটল থাকার জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা।
  2. আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে ফিরে আসে, তাকে ঈমান ও তাওফীক দ্বারা দৃঢ়তা প্রদান করা হয়।
  3. আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠ থাকা: একনিষ্ঠতা পাপ ও মন্দ থেকে দূরে রাখে।
  4. প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করা: তাকওয়া ব্যক্তি পাপ থেকে বিরত থাকে।
  5. নিয়মিত ছালাত আদায় করা: অন্তরে আলো সৃষ্টি করে যা নেকী ও সত্য পথে স্থির রাখে।
  6. ধৈর্যধারণ: পরীক্ষার সময় দ্বীনের পথে অবিচল থাকতে সাহায্য করে।

ইসতিক্বামাত বা দ্বীনের উপর অটল থাকা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নৈতিকতা নয়, এটি আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠতা, ধৈর্য, তাক্বওয়া এবং ছালাতের মাধ্যমে অর্জিত হয়। যা মানুষের জীবনকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে এবং পরকালীন জয় নিশ্চিত করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top