প্রত্যেক মানুষই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। ধনী-গরীব, বড়-ছোট বা সাধারণ মানুষ—কেউই এই সত্য থেকে পালাতে পারে না। পৃথিবীর জীবন দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং মানুষকে পাড়ি দিতে হয় পরকালের চিরস্থায়ী যাত্রা। সেখানে তাকে একাই দাঁড়াতে হবে। তাই জীবনের শেষ হওয়ার আগে সৎকর্ম সঞ্চয় করা অপরিহার্য। সেই সঞ্চয়ের মাঝে ছাদাক্বা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ছাদাক্বা গোনাহ মুছে দেয়
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ছাদাক্বা পানির মতো গোনাহ নিভিয়ে দেয়। একজন মুমিন কিয়ামতের দিন তার দানের ছায়াতলে অবস্থান করবে। তাই দান শুধু পার্থিব নয়, আখিরাতেরও নিরাপত্তা দেয়।
আরও পড়ুন >> ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানের গুরুত্ব, ফযীলত
দান করলে নেকী বহুগুণ বাড়ে
আল্লাহর পথে ব্যয় করলে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত নেকী লাভ হতে পারে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করলে মানুষের অন্তর প্রশান্ত হয়। পরিবার থেকে দান শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন নবী করীম (ছাঃ)। এতে ঘনিষ্ঠদের প্রতি দায়িত্ব পালন হয় এবং আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।
আল্লাহ দানকারীর রিজিক বৃদ্ধি করেন
হাদীসে এসেছে—আল্লাহ বলেন: “হে আদমসন্তান! তুমি দান কর, আমি তোমাকে আরও বেশি দান করব।” তাই দান করলে সম্পদ কমে না; বরং বরকত বাড়ে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেও পারে না কোন মাধ্যমে রিজিক বাড়ছে। তবে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সেই বাড়তি রিজিক পৌঁছে দেন।
ছাদাক্বা অন্তরকে শুদ্ধ করে
দান মানুষের অন্তর থেকে কৃপণতা দূর করে। এতে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন—ছাদাক্বা মানুষের মধ্যে পবিত্রতা সৃষ্টি করে এবং তাদের চরিত্র উন্নত করে। তাই দান শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, হৃদয়ের প্রশান্তির পথও।
সম্পদ প্রকৃত অর্থে কমে না
নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন—ছাদাক্বা সম্পদ কমায় না। বরং দান করলে আল্লাহ এমন উৎস থেকে বরকত দেন যা মানুষের কল্পনায়ও থাকে না। ফলে দানকারীর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ে এবং জীবনে প্রশান্তি আসে।
ছাদাক্বা আল্লাহর গজব নিভিয়ে দেয়
সৎকর্ম মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করে। বিশেষভাবে গোপন দান আল্লাহর ক্রোধ দূর করে। তাই বিপদ-মুসিবত থেকে বাঁচার একটি উত্তম উপায় হলো দান করা এবং দো‘আ করা।
ছাদাক্বা রোগ-ব্যধি দূর করতে সহায়তা করে
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন—ছাদাক্বার মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা করো। কারণ দান আল্লাহর রহমত ডেকে আনে। এতে বিপদ দূর হয় এবং মুমিনের উপর আল্লাহর করুণা নাজিল হয়।
মানবকল্যাণে ছাদাক্বার ভূমিকা
কখনো দান ভুল ব্যক্তির কাছেও পৌঁছাতে পারে। তবু—তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। কারণ দানের ফল কখনো অপ্রত্যাশিতভাবে মানুষের জীবন বদলে দেয়। এতে চোর চুরি থেকে, ব্যভিচারিণী ব্যাভিচার থেকে এবং ধনী ব্যক্তি কৃপণতা থেকে দূরে সরে যেতে পারে।
কিয়ামতের দিনে দাতা হবে আরশের ছায়াতলে
যে লোক গোপনে দান করে, কিয়ামতের কঠিন দিনে সে আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে। সেই দিন কোনও ছায়াই থাকবে না; তাই দানকারীর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
ছাদাক্বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথ
আল্লাহ বলেছেন—যে ব্যক্তি জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে, তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি। এতে দানের গুরুত্ব সুস্পষ্ট। দান মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য শক্তিশালী ঢাল।
দাতাকে জান্নাতের সব দরজা থেকে আহ্বান করা হবে
সৎকর্ম, সালাত, জিহাদ, রোজা বা দানের প্রতিটি কাজে আলাদা আলাদা দরজা রয়েছে। তবে দানশীল মানুষের বিশেষ স্থান রয়েছে—তাকে জান্নাতের সব দরজা থেকেও আহ্বান করা হতে পারে।
ছাদাক্বাই প্রকৃত পরকালীন সঞ্চয়
মানুষের প্রকৃত সম্পদ হলো যা সে দান করে অগ্রিম পাঠায়। খাওয়া বা ব্যবহার করা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু দানেই রয়েছে চিরস্থায়ী সম্পদ। কিয়ামতের দিন মানুষের সঙ্গে শুধু আমল থাকবে। তাই দানই হবে পরকালে তার প্রকৃত পাথেয়।