দরিদ্র, অসহায়, অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সেবা করা মুমিনের অন্যতম মহৎ বৈশিষ্ট্য। কারণ ঈমানদার সম্প্রদায় এক দেহের মতো। দেহের একটি অংশ ব্যথা পেলে যেমন পুরো দেহ অস্থির হয়ে ওঠে, তেমনি কোনো মুমিন বিপদে পড়লে তার কষ্ট অন্য মুমিনকেও ব্যথিত করে। ইসলামের শিক্ষায় এই পারস্পরিক দয়া, সহানুভূতি ও ভালোবাসা বারবার গুরুত্ব পায়।
মানুষকে সাহায্য করাকে আল্লাহর পথে বিনিয়োগ বলা হয়েছে
মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করা কিংবা তাদের দুঃসময়ে সহযোগিতা করা আল্লাহর কাছে এক বিশেষ সওয়াবের কাজ। কোরআনে বলা হয়েছে—যে কেউ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, আল্লাহ তাকে বহুগুণ প্রতিদান দেন। এখানে আল্লাহকে ‘ঋণ’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে রূপকার্থে, যার আসল অর্থ হলো—তাঁর পথে ব্যয় করলে তার প্রতিদান অসীমভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই দানশীল পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।
আরও পড়ুন >> ছাদাক্বার গুরুত্ব: দানের ফজিলত
সংকটে মুমিনের পরীক্ষার মুহূর্ত
বর্তমান সময়ের নানা বিপর্যয় ও দুর্যোগ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পরীক্ষা নয়; বরং বাকি মানুষের প্রতিও এক পরীক্ষা। আল্লাহ দেখছেন—আমরা তাদের জন্য কী করছি, কতটা আন্তরিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে এমনভাবে সাহায্য করতে হবে যেন সে আমাদের আপন ভাই। তার সম্মান রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করা আমাদের ঈমানের দাবি।
পরস্পর ভাই হওয়ার বাস্তব দায়িত্ব
রাসূলের শিক্ষায় এসেছে—মুসলমানরা পরস্পর ভাই। ভাইকে অন্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া বা তার ওপর জুলুম করা ঈমানের বিরোধী। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন। এমনকি কোনো মুসলমানের কষ্ট দূর করলে কেয়ামতের দিনে আল্লাহ তার কষ্ট দূর করবেন। তাই বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি আল্লাহর করুণা লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ।
দরিদ্র আত্মীয়, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ব
দরিদ্র আত্মীয়, প্রতিবেশী, এতিম ও মিসকিনের প্রতি দায়িত্ব পালনের প্রতি ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ নির্দেশ দেন—বেচাকেনা, বন্ধুত্ব বা সুপারিশহীন সেই দিনের আগে ব্যয় করো। প্রকৃত সৎকর্মশীল সেই ব্যক্তি যে তার সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য—নিকটাত্মীয়, অনাথ, মিসকিন, মুসাফির ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে।
দয়াশীলদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ দয়া
দয়াশীল মানুষ আল্লাহর বিশেষ দয়ার অধিকারী। মানুষকে দয়া করলে আসমানের মালিকও তার প্রতি দয়া করেন—এ শিক্ষা ইসলামের মূল মর্মবাণী। বিপদে থাকা মানুষকে বস্ত্র দিলে আল্লাহও তাকে জান্নাতের আলোকময় বস্ত্র পরিয়ে দেবেন—এ ঘোষণা দানের প্রতি উত্সাহিত করে।
দান–খয়রাতের মর্যাদা
মানবতার কল্যাণে দান করা নবীর অভ্যাস ছিল। দিন-রাত, গোপনে-প্রকাশ্যে দান করার গুরুত্ব কোরআনে উল্লেখিত। প্রকাশ্য দান করলে সওয়াব আছে, যদি সেটা আত্মপ্রচার না হয়। তবে গোপন দান আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। গোপনে অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করলে এর সওয়াব অসীম।
আমাদের করণীয়
আমাদের সমাজে অসংখ্য মানুষ দুঃখ-কষ্টে দিন কাটায়। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। সাহায্যের পাশাপাশি নিজের গুনাহের জন্য তাওবা করা উচিত। বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি দয়া ও সহযোগিতা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও কেয়ামতের দিনের নিরাপত্তা পাওয়ার অন্যতম পথ।